দক্ষিণ কোরিয়ায় সরকারী স্কলারশিপে উচ্চশিক্ষা

দক্ষিন কোরিয়ার সরকারি স্কলারশিপ কেজিএসপি সাধারণত স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর উভইয়ের জন্য প্রযোজ্য। তবে Global IT Korean Government Scholarship Program (GIKGSP) সাধারণত মাস্টার্স লেভেলে স্কলারশিপ দিয়ে থাকে। তবে সেক্ষেত্রে অধ্যাপকের সুপারিশ থাকলে ভালো হয়।  কেজিএসপি প্রোগ্রামে অধ্যয়ন করতে চাইলে প্রথম এক বছর কোরিয়ান ভাষা শিক্ষাটা জরুরী।

প্রতিবছর এই স্কলারশিপের আওতায় বিভিন্ন দেশের শীক্ষার্থীদের কাছ থেকে আবেদন চাওয়া হয়। এই স্কলারশিপে বাংলাদেশ থেকেও আবেদন আহবান করা হয় তবে বাংলাদেশের কোটা থাকে ২ থেকে ৩ জন।তাই এই স্কলারশিপ পেতে হলে নিজেকে আলাদাভাবে যোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করাটা জরুরী। যেমন একাডেমিক রেজাল্ট, আইইএলটিএস, কোরিয়ান ল্যাঙ্গগুয়েজ সার্টিফিকেট (যদি থাকে), এক্সট্রা কারিকুলাম সার্টিফিকেট। যদি উল্লেখিত সার্টিফিকেটগুলা নাও থাকে নিজেকে প্রমাণ করতে এই সার্টিফিকেটগুলা কাজে দেবে।

এই স্কলারশিপের নির্বাচিত শিক্ষার্থীদেরকে প্রথম ১ বছর কোরিয়ান ভাষায় পড়ে লেভেল ৩ পাশ করে তারপর অনার্সের মুল পড়াশোনা শুরু হয়।

স্কলারশিপের সুবিধা

আসা যাওয়ার বিমানের টিকেট, সেটেলমেন্ট এলাউন্স ২ লাখ উওন, লিভিং এলাউন্স ৮ লাখ উওন, মেডিক্যাল ইনসুরেন্স মাসিক ২০ হাজার উওন, ল্যাংগুয়েজ কোর্স ফি ৮ লাখ উওন, টিউশন ফি, এক্সিলেন্ট ল্যাঙ্গুয়েঞ্জ প্রফিসিয়েন্সি এওয়ার্ড বাবদ মাসিক অতিরিক্ত ১ লাখ উওন, রিসার্চ সাপোর্ট প্রতি সেমিস্টারে ২ লাখ ১০ হাজার উওন। এছাড়া অন্যান্য প্রয়োজনীয় সকল খরচ কতৃপক্ষ বহন করবে

আবেদনের প্রক্রিয়া

আগ্রহী শিক্ষার্থীকে বাংলাদেশে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত ফর্মে আবেদন করতে হবে। প্রতি বছর সেপ্টেম্বরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে চোখ রাখতে হবে। তবে আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। স্কলারশিপের তথ্য পেতে গুগল আপনাকে সহযোগিতা করবে। গুগল থেকে ইউনিভার্সিটি খুঁজে বের করে সেই ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইটে গেলে সব তথ্য পাওয়া যাবে। ওয়েবসাইটের ডানপাশের কোনায় ইংরেজির একটা অপশন থাকে সেখানে ক্লিক করলেই ইংরেজি ওয়েবসাইট ওপেন হবে। ইউনিভার্সিটিগুলোর ওয়েবসাইট দেখে আপনাকে স্কলারশিপের লিস্ট করতে হবে এবং কোন ইউনিভার্সিটি কি সুবিধা দিচ্ছে সব দেখে এবার এপ্লাই করা শুরু করে দেন বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে। অনলাইন/ অফলাইন দুইভাবেই আপনি এপ্লাই করতে পারবেন।

ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া

১। আবেদনকারীর নিজ হাতে পূরণকৃত আবেদন পত্র।
২। ভর্তিকৃত বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ প্রদত্ত ভর্তির সার্টিফিকেট (মূল কপি ও ফটোকপি)।
৩। আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের মূলকপি ও ফটোকপি।
৪। আবেদনকারীর জন্ম নিবন্ধন (বার্থ সার্টিফিকেট) এর মূল কপি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে স্বাক্ষরিত সত্যায়িত ফটোকপি। বি দ্র: অনেক ঝামেলা পোহাতে হয় এইটা নিয়ে। সচিবালয়ের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাউন্টারে কোন বার্থ সার্টিফিকেট জমা নেয় না। এইজন্য আগে থেকেই অন্য কোনোভাবে কাউন্টার পাস নিয়ে ভিতরে গিয়ে সত্যায়িত করতে হয়। এক্ষেত্রে অবশ্যই সাথে নোটারী কপি সাথে নিয়ে যাবেন।
৫। সিটি কর্পোরেশন (সমমান) থেকে দেয়া ফ্যামিলি রিলেশন সার্টিফিকেট।
৬। একাডেমিক ও অন্যান্য খরচ বহন করা হবে এই মর্মে কোন সার্টিফিকেট (সাধারণত স্কলারশীপ দাতা প্রতিষ্টান বা প্রফেসররা এটা দিয়ে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো স্কলারশীপ হলে কতৃপক্ষ ভর্তির সার্টিফিকেটের সাথেই এই সার্টিফিকেট পাঠিয়ে থাকে। অন্যথায় একাডেমিক ও থাকা খাওয়ার খরচ বহনের জন্য আবেদনকারীর নিজের অথবা তার অভিভাবকের অর্থনৈতিক সামর্থের প্রমানপত্র দিতে হবে)।
৭। পুলিশ ভেরিফিকেশন, যা অবশ্যই স্বরাষ্ট্র অথবা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়িত করে নিতে হবে (এটি নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গেলে খুব সহজেই সত্যায়িত করা যায়)
৮। শিক্ষাগত যোগ্যতার সকল সনদের মূলকপি ও ফটোকপির নোটারী করাতে হবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে (এটি প্রথমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সত্যায়িত কপি নিয়ে আবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়ে সত্যায়িত করতে হবে)।  

উপোরক্ত কাগজপত্রসমুহ বাংলাদেশে অবস্থিত দক্ষিণ কোরিয়ার অ্যাম্বাসিতে জমা দিতে হবে। এসময় স্টুডেন্ট ভিসার ফি হিসেবে ৫৭ মার্কিন ডলার পরিশোধ করতে হবে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close